সূরা ইখলাস: সূরা আল-ইখলাস কুরআনের অন্যতম একটি তাৎপর্যপূর্ণ সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এর আয়াত সংখ্যা ৪ টি। ও রুকু একটি। মহান আল্লাহকে জানার জন্য কাফেররা যখন প্রশ্ন করেছিলো, যে আল্লাহ’র পরিচয় কি, তখন তার উত্তর স্বরূপ এই সূরা নাজিল হয়েছিলো।
সূরা ইখলাস আরবি ও বাংলা
অন্যান্য সূরা সমূহের মতো এই সূরাটিও শুধু বাংলা, কিংবা আরবি বাংলা, অথবা শুধু আরবিতে পড়া যাবে।
নিম্নে সূরা ইখলাস এর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
(মহান আল্লাহর নামে শুরু করলাম)
*১ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١
*উচ্চারণ* ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ।
*অর্থ* (হে নবী!) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়।
*২ ﴿٢﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ
*উচ্চারণ* আল্লাহুস-সামাদ।
*অর্থ* আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী (তিনি চিরস্থায়ী)
*৩ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
*উচ্চারণ* লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ।
*অর্থ* তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।
*৪ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
*উচ্চারণ* ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
*অর্থ* আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

সূরা ইখলাসের মূল বিষয়বস্তু:
আল্লাহ তায়ালার পরিচয়: জৈনিক কাফের অমুসলিমরা এই নিয়ে খোশগল্পে মেতে উঠলো, যে মুসলিমদের রবের পরিচয় কি। তন্মোধ্য কিছু কাফের তাদের নারী মূর্তি সমূহকে আল্লাহর সন্তান (নাউযুবিল্লাহ) বলে সাব্যস্ত করতে লাগলো। তখন এই সূরাটি অবতীর্ণ হয়। সূরায় স্পষ্ট ভাবে আল্লাফ তায়ালা বলেন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাকে কেউ জন্ম দেয়নি। অতঃপর এই আয়াত গুলো কাফেরদের সকল দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করলো। এবং আল্লাহ এক, তার সমতূল্য কেউ নেই, এই বার্তা পৌছে গেলো হেদায়েত প্রাপ্তদের কাছে।
সূরা ইখলাস পাঠের ফজিলত:
এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের নেকি- হাদিস শরীফে এসেছে, সূরা ইখলাস কেউ পূর্নাঙ্গ একিনের সহীত একবার পড়লে, পবিত্র কোরআন এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব পাবে।
আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত:
أَنّ رَجُلًا سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ: قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ يُرَدِّدُهَا، فَلَمّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، وَكَأَنّ الرّجُلَ يَتَقَالّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: >وَالّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ.
এক ব্যক্তি জনৈক সাহাবীকে দেখলেন, বারবার قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ সূরাটি পড়ছেন। সকাল হলে ঐ ব্যক্তি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বিষয়টি পেশ করলেন। -লোকটি হয়তো ভেবেছে, এ ছোট একটি সূরা বারংবার পড়তে থাকা তেমন সওয়াবের কাজ নয়- তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! সূরা ইখলাছ কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। -(সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০১৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬১; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৯৯৫)
জান্নাতে ঘর নির্মাণ:
আহমাদ ও ছহীহুল জামে’ এর হাদিস নং ৬৪৭২ এ এসেছে, যে ব্যক্তি সূরা ইখলাছ ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন।
আমরা বেশি বেশি পরিপূর্ণ একিনের সাথে সূরা ইখলাস পাঠ করবো, এবং এর উপর আমল করবো।
-মির্জা শাহারিয়া
